রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব কোরআন ও হাদিসের আলোকে

রোজার ফজিলত

আমরা সকলেই জানি ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভ রয়েছে।  আর এই স্তম্ভ গুলোর মধ্যে রমজান মাসের রোজা অন্যতম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  আল কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা দ্বিতীয় হিজরীতে তার বান্দাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন। তাই আমাদের সকলের উচিত রোজার ফজিলত গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানা এবং সতর্ক হওয়া। 

তাই আমাদের আজকের আর্টিকেলের বিষয়টি হলো রোজার ফজিলত সম্পর্কে।  তবে চলুন কথা না বাড়ি শুরু করা যাক আমাদের আজকের আর্টিকেল রোজার ফজিলত। 

রোজার ফজিলত

রমজানের রোজা যদি কেউ অস্বীকার করে তাহলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। এ ছাড়া শরীয়তের কোন বিধান ছাড়া যদি কেউ রোজা ভঙ্গ করে তাহলে সে ফরজ ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে।  শরীয়তে কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে রোজা না রাখার।  এ কারণ গুলো ব্যতীত যদি অন্য কেউ রোজা না রাখে তাহলে তার গুনা হবে। নবী করীম সাঃ বলেছেন যে ব্যক্তি কোন ওযুর ছাড়া বা অসুস্থতা ছাড়া রমজানের একটি রোজা পরিত্যাগ করবে সে যদি ওই রোজার পরিবর্তে আজীবন রোজা রাখে তবু ওই এক রোজার ক্ষতিপূরণ হবে না। 

রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা নিজে বলেন,,,,, সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাস অতএব রমজান মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে।  তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে তবে অন্য সময় এই সমান সংখ্যা পূরণ করবে। রমজান মাসের রোজা রাখার পুরস্কার আল্লাহ তায়ালা নিজের হাতে প্রদান করবে।  আরবি হিজরী সনে সেরা মাস হল রমজান মাস।  আর এই মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো রোজা।  রোজা আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় এবাদত।  আর এর প্রতিদান তিনি নিজ হাতেই দেবেন।  

এখন রোজার ফজিলত সম্পর্কে কিছু হাদিস নিয়ে আলোচনা করব।  এ সকল হাদিস পড়ে বুঝতে পারবেন আসলে রোজার ফজিলতটা ঠিক কি পরিমানের। 

রোজার ফজিলত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এরশাদ করেন যে আল্লাহ তা'আলা বলেন, আদম সন্তানের প্রত্যেক আমল তার নিজের জন্য, কিন্তু রমজানের রোজা ব্যতীত, কারণ রোজা আমার জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব।  মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আরো বলেন রোজা হল এক ঢাল স্বরূপ।  নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন তোমাদের  মধ্যে কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে।  রোজা রাখা অবস্থায় যদি কেউ তোমার সাথে গালাগালি কিংবা ঝগড়া বিবাদ করে তাহলে তুমি তাকে বলবা আমি একজন রোজাদার।  রোজা অবস্থায় তার সাথে আর ঝগড়া-বিবাদে জড়াবে না। আল্লাহ তায়ালার কাছে রোজাদারের মুখের গন্ধ মেশকের সুগন্ধীর চেয়েও সুগন্ধময়।  রোজাদারের জন্য রয়েছে দুটি খুশির মুহূর্ত যা কিনা তাকে আনন্দিত করে।  এখনো যখন সেই ইফতার করে সে খুশি হয়, এবং আরেক মুহূর্ত হলো যখন সে তার পালনকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এবং তখন এই রোজা রাখার বিনিময়ে আনন্দিত হবে।  বুখারি হাদিস,1895। 

* আমাদের মধ্যে কেউ যদি ঝগড়া-বিবাদ করে কিংবা পরিবারের সাথে বা প্রতিবেশীদের সাথে খারাপ আচরণ করে তাহলে সেটা নামাজ কিংবা রোজার মাধ্যমে এবং সাদকা দেওয়ার মাধ্যমে কাফফারা করা হয়।  এমন এক হাদিসের বর্ণনায় আছে যে, হযরত হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু বলেন আমি মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কে বলতে শুনেছি মানুষের পরিবার, ধন সম্পদ ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে গঠিত বিভিন্ন ফেতনা ও গুনাহার কাফফারা হলো নামাজ রোজা ও সদকা। বুখারি হাদিস 1895।  

* আরেকটি বর্ণনা এসেছে হযরত আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন।  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন যে বান্দা আল্লাহর পথে একদিন রোজা রাখবে সেই বান্দাকে আল্লাহ তা'আলা এই রোজার বিনিময় জাহান্নাম থেকে 70 বছরের পথের পরিমাণ দূরত্ব রাখবেন। বুখারি হাদিস 2840।  এই হাদিসের মাধ্যমে বুঝা যায় আসলে রোজার ফজিলত টা ঠিক কি পরিমানের।  যদি কোন বান্দা খাস নিয়তে রোজা রাখে তাহলে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তার ওপর রাজি খুশি হয়ে যাবেন। কেননা আল্লাহ তায়ালা নিজে বলেছেন রোজার পুরস্কার তিনি নিজের হাতে দান করবেন।  তাই রোজার ফজিলত অনেক। 

 * একবার হযরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে বলেন।  হে আল্লাহর রাসূল আমাকে এমন কোন আমলের আজ্ঞা করুন যার বিনিময়ে আল্লাহ আমাকে লাভবান করবেন । অন্য এক বর্ণনায় আছে, যার মাধ্যমে আমি জান্নাতে যেতে পারবো।  তিনি বললেন তুমি রোজা রাখো।  কেননা এর সমতুল্য কিছু নেই।  পুনরায় হযরত আবু উমামা রাঃ আবার বলেন হে আল্লাহর রাসূল আমাকে কোন আমলের আদেশ করুন।  নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম পুনরায় একই কথা বললেন তুমি রোজা রাখো।  কারণ এর সমতুল্য কিছু নেই।  নাসাঈ, সহি তারগিব, হাদিস 973।  মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর কথা অনুযায়ী বোঝা যায় রোজার ফজিলত অনেক।  কেননা রোজা রাখার মাধ্যমে আমরা জান্নাত লাভ করতে পারব।  এবং আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে পারবো।  তাই আমরা অবশ্যই রমজানের রোজাগুলো ঠিক ভাবে রাখবো। 

* আরেক বর্ণনায় রয়েছে, হযরত সাহাল ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেন, জান্নাতের এক প্রবেশদ্বার রয়েছে যার নাম রায়হান।  কেয়ামতের দিন ওই প্রবেশদ্বার দিয়ে রোজাদার গণ প্রবেশ করবে।  একমাত্র তারা ছাড়া আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না।  কেয়ামতের দিন বলা হবে কোথায় রোজাদার গন, সুতরাং তারা ওই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।  তারপর যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে ঠিক তখনই সেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে।  এর ফলে ওই দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।  বুখারি হাদিস 1896।  এই হাদিসটি পড়ার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম যে রোজা রাখার ফলে জান্নাতে যাওয়া খুবই সহজ হবে।  রোজার ফজিলত এর মধ্যে অন্যতম একটি ফজিলত হলো এই ফজিলতটি।  কেননা রোজা রাখার ফলে আমরা সহজেই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো।  এই হাদীস থেকে বোঝা যায় রোজার ফজিলত এবং গুরুত্ব অনেক বেশি।  

* হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত ,মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এরশাদ করেন,  কেয়ামতের দিন রোজা ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে।  নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন রোজা বলবে হে আমার প্রতিপালক আমি তাকে পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে বিরত রেখেছিলাম,সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন।  অন্যদিকে কোরআন বলবে আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছিলাম সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন।  মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম আরও বলেন অতএব উভয়ের সুপারিশ গৃহীত হবে।  মুসনাদে আহমাদ, সহি তারগিব, হাদিস969।  এই হাদিসটি পড়ার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম রোজা রাখা এবং কুরআন পড়ার ফজিলত ঠিক কি পরিমান।  কেননা বিচার দিবসে রোজা এবং কুরআন আমাদের জন্য সুপারিশ করবে।  তাই আমরা অবশ্যই রোজা রাখব এবং কুরআন পড়বো।  

* হযরত ওসমান বিন আবুল আস থেকে বর্ণিত, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেন, রোজা জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য ঢাল স্বরূপ, যেমন যুদ্ধের সময় নিজেকে রক্ষা করার জন্য তোমাদের ঢাল থাকে।  মুসনাদে আহম্মদ, সহীহুল জামে উসাগীর, হাদিস3879।  এই হাদিসটি পড়ার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম রোজা ঠিক আমাদের জন্য কি পরিমান গুরুত্বপূর্ণ।  কেননা রোজা আমাদের জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য সুপারিশ করবে এবং ঢাল হিসেবে কাজ করবে।  জীবনে চলার পথে ঢাল থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  রোজার ফজিলত এর মধ্যে অন্যতম একটি ফজিলত হলো এইটি। 

* হযরত হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন একদিন মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম আমার বুকে হেলান দিয়ে ছিলেন।  তখন তিনি বললেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলার পর  যে ব্যক্তির জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।  আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন রোজা রাখার পর যে ব্যক্তির জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।  আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কিছু সাদকা করার পর যে  ব্যক্তির জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে।  মুসনাদে আহমাদ, সহি তারগিব, হাদিস 972।  এই হাদিসটি পড়ার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম রোজা রাখার আরেকটি ফজিলত সম্পর্কে।  কেননা আল্লাহর খুশির জন্য রোজা রাখার পর যদি কেউ মারা যায় তাহলে সে জান্নাত লাভ করবে।  

আমাদের আজকের আর্টিকেলের বিষয়টি ছিল রোজার ফজিলত সম্পর্কে।  আশা করি আপনারা সকলে বিস্তারিতভাবে রোজার ফজিলত সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।  আর্টিকেলটি সম্পন্ন করার জন্য ধন্যবাদ। এবং আমরা সকলেই রোজা রাখব নামাজ পড়বো এবং কুরআন পড়বো। 


Md.Mahmud

আমার নাম মোঃ মাহমুদুল হাসান বাবু । আমি পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। এবং ইনফরমেশন টেকনোলজি বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি । আমি বিজ্ঞান এবং টেকনোলজি নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি । আমি আমার কাজের ফাঁকে ফ্রিল্যান্সিং ব্লগে লেখালেখি করি। 01921822498

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post

Ads

Ads